আমাদের প্রধান শক্তি হলো প্রতিষ্ঠানকে নিজের মনে করা : প্রধান প্রকৌশলী সেখ মহসিন

2

এলজিইডির সদ্য বিদায়ী প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানের বিদায়ী সংবধনা অনুষ্ঠানকে একটি শিক্ষামূলক সেশন উল্লেখ করে নবনিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী সেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেছেন, তিনি ৩৩ বছর ধরে এলজিইডির মাধ্যমে দেশকে সেবা দিয়েছেন। তার সেই অভিজ্ঞতাই আমাদের জন্য শিক্ষামূলক সেশন। তিনি বলেন, বিদায়ী প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন একজন ধৈযশীল মানুষ। উনি কখনও বিরুপ আচরণ বা রাগ করেন নি। এটা একজন মানুষের বিরাট গুণ। যারা ধৈয্য ধারণ করে আল্লাহ তাদেরকে পছন্দ করেন। তিনি বলেন, কামরুল ইসলাম সিদ্দিক স্যার আমাদেরকে এমন কাজ দিয়ে গেছেন যে, আমরা হাতের কাজ শেষ না করে বাড়ি ফিরতে পারি না। রাতে ঘুমাতেও পারি না। আমাদের প্রধান শক্তি হলো প্রতিষ্ঠানকে নিজের মনে করা। প্রধান প্রকৌশলী পবিত্র কোরআনের ‘বনি ইসরাইল’ সুরার ৮০ নম্বর আয়াতের অংশ তেলাওয়াত ও তরজমা কওে উপস্থিত সবার সামনে উপস্থাপন করেন। যার মূল ভাব হলো, কোন কিছুর আগমন ও প্রস্থান সুন্দর হয় আল্লাহর অশেষ রহমতে। তিনি বিদায়ী প্রধান প্রকৌশলীল বিদায় এবং তার নিজের আগমনকে সুন্দর বলে অভিহিত করেন। এলজিইডির কমকতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, সবাইকে সকল কাজের ফল নিয়ে একদিন সৃষ্টিকতার কাছে হাজির হতে হবে।
শনিবার বিকালে এলজিইডির আরডিইসি সেমিনার কক্ষে প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ খানের বিদায়ী সংবধনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নবনিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী সেখ মোহাম্মদ মহসিন এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খান এলজিইডির সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমার সুন্দর পরিসমাপ্তির জন্য আমি আপনাদের কাছে ঋনি। তিনি এলজিইডিকি সামগ্রিকভাবে এগিয়ে নেয়ার উপর গুরুত্বরোপ করে বলেন, এখানে প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ আছে। এজন্য সবাইকে চোখ কান খোলা রাখতে হবে। বিদায়ী প্রধান প্রকৌশলী বলেন, আমি ভাল ছিলাম কিনা জানি না। তবে আগামীতে আরও ভাল করার জন্য নেতৃত্ব হাতগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি বলেন, আমার অনেক দুবলতা ছিল। ম্যানেজার হিসেবে আমি ভিন্ন আঙ্গিকে কাজ করার চেষ্টা করেছি।
বিদায়ী প্রধান প্রকৌশলীর সহধমিনী ডাক্তার নারগিস মোরশেদাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আমার স্বামীর অবসরে আমি খুব খুশি। এতদিন ব্যস্ততার জন্য তিনি আমাকে সময় দিতে পারেন নি। এখন থেকে আমরা নতুন করে জীবন শুরু করবো।
এর আগে বিদায়ী প্রধান প্রকৌশলীর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম আকন্দ, আহসান হাবিব, আলী আক্তার হোসেন, এ কে এম লুতফর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুর রহমান, মুজিবুর রহমান সিকদার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়া, শহিদুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ আব্দুর রহিম, জসীম উদ্দিন, মোমিন মুজিবুল হক সমাজি, মামুনুর রশীদ, নিবাহী প্রকৌশলী সোনিয়া নওরীন, তাপস চৌধুরী, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলীর স্টাফ অফিসার আসফাক প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুল আজিজ। সব শেষে বিদায়ী ও নবনিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দীঘায়ু, সুস্থতা ও এলজিইডির মঙ্গল কামনা করে দোয়া করেন এলজিইডি ভবনের পেশ ইমাম হাফেজ মো. আব্দুল জব্বার।