২১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে থাকবে ছয় স্তরের নিরাপত্তা: ডিএমপি কমিশনার

5

মহান ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ২০২২ উদযাপন এবং  পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে  কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি)  কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।
এবার একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে কোনো হুমকি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, তারপরও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শহীদ মিনার এলাকায় তিন শিফটে ছয় স্তরের সার্বিক নিরাপত্তায়  নিয়োজিত থাকবে পুলিশ।
আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদেরএক প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি থাকবে না উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারির দিন  ইউনিফর্মধারী সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
এছাড়া, বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, ডিবি, র‌্যাব ও সোয়াট টিম দায়িত্ব পালন করবে। সবার সমন্বয়ে ছয় স্তরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, শহীদ মিনার কেন্দ্রীক চারিদিকে যে রাস্তা রয়েছে প্রত্যেকটি রাস্তায় পুলিশের চেকপোস্ট থাকবে। চেকপোস্টের বাইরের ও ভেতরের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতে আসবেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে, আমাদের যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তারা আসবেন বিষয়টি মাথায় রেখেই সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব মেনে সবাইকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসতে হবে। এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আশেপাশে তল্লাশি করা হবে। যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এবছর কোভিডের জন্য কিছু বিধি-নিষেধ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার ঘোষিত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোভিডের কারণে যেসব স্বাস্থ্যবিধিগুলো দিয়েছে তা সবাইকে মেনে চলার অনুরোধ করবো। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে আপনি আপনার পরিবারের কাছেই ফিরে যাবেন। সুতরাং আপনার নিরাপত্তা ও আপনার পরিবারের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করবেন।’
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় কেউ কোনো ধরনের ব্যাগ বহন করতে পারবে না উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন,  নিজের মোবাইলফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ প্রতি বছর এই শহীদ মিনার এলাকা থেকে প্রচুর মোবাইল ফোন চুরি হয়। শত শত মানুষ লাইনে থাকে; এতে করে মোবাইল চুরির বিষয়টি ধরা কঠিন হয়ে যায়।
তল্লাশী ও নিরাপত্তা বলয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সোয়াট টিম, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড দিয়ে পুরো এলাকা তল্লাশি করা হবে। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকেও বিশেষ তল্লাশি করা হবে, যোগ করেন ডিএমপি কমিশনার।
তিনি বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক ব্যানার-ফেস্টুনে যাতে এলাকা নোংরা না হয় সেজন্য সবাইকে অনুরোধ করবো। আর যদি কেউ এসব ব্যানার-ফেস্টুন টানিয়ে থাকেন তাহলে ঢাবি ও ডিএমপি যৌথভাবে সেগুলো অপসারণ করবে।’
বিদেশী  রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ মিনার এলাকায় ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। ব্যারিকেডের ভিতরের অংশ সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। ব্যারিকেডের ভিতরে প্রবেশের সময় সবাইকে তল্লাশি করা হবে। সে কারণে এবার বিদেশি কূটনৈতিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করা হবে।
মোহা. শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, অতি উৎসাহের কারণে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে উল্টোপথে আসার চেষ্টা করেন। তাদের কারণে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করবো আপনাদের কাছ থেকেই জাতি শৃঙ্খলা শিখবে। দয়া করে নিয়ম মেনে চলবেন। যে রাস্তা দিয়ে আসার অনুরোধ করছি সে রাস্তা দিয়েই আসবেন।
শহীদ মিনারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) কৃষ্ণ পদ রায়, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) এ কে এম হাফিজ আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. আসাদুজ্জামান, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার ও ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ফারুক হোসেন।