এই অস্বস্তিকর সমস্যা হতে পারে করোনাভাইরাসের লক্ষণ

4

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা উনিশ মিলিয়নের কাছাকাছি। প্রাণহানির সংখ্যাও কম নয়। এদিকে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা এবং গবেষকরা করোনাভাইরাস নিরাময়ের জন্য দিনরাত কাজ করছেন, সময় মতো রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগের জটিল লক্ষণগুলো সম্পর্কে আরও জানার প্রচেষ্টাও চলছে। আর তাতেই উঠে আসছে নতুন নতুন লক্ষণের কথা। এমনটাই প্রকাশ করেছেন টাইমস অব ইন্ডিয়া।

করোনাভাইরাসের অস্বাভাবিক লক্ষণ
প্রথমদিকে জ্বর, শুকনো কাশি, গলা ব্যথা এবং শ্বাসকষ্টকে করোনাভাইরাসের বৈশিষ্ট্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে গত কয়েকমাসে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, এই রোগটি কখনো কখনো সম্পূর্ণ উদ্ভট উপায়ে দেখা দিতে পারে। করোনাভাইরাসের কিছু ক্লিনিকাল বৈশিষ্ট্য অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতার মতো হলেও, এটি স্বাদ এবং গন্ধের ক্ষতি (কোনোরকম ঠান্ডার সমস্য ছাড়াই), চোখের সমস্যা, ত্বকের ফুসকুড়ি, হালকা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা এবং কিছু রোগীর মাথাঘোরা সহ অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দেয়।

করোনাভাইরাসের আরেকটি অস্বাভাবিক লক্ষণ
বিশ্বজুড়ে প্রায় উনিশ মিলিয়ন আক্রান্তের পর এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, করোনভাইরাস মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পুরো শরীরে অদৃশ্য ও অস্বাভাবিক লক্ষণের মাধ্যমে আক্রান্ত করতে পারে। আমেরিকান জার্নাল অব ইমার্জেন্সি মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণা করোনাভাইরাসের একটি অভিনব লক্ষণের কথা প্রকাশ করেছে, লক্ষণটি হলো হেঁচকি।

গবেষণায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কুক কাউন্টি হেলথের ডাক্তাররা ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির কেস রিপোর্ট বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন, যিনি চারদিন ধরে টানা হেঁচকির সমস্যায় ভুগে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়েছিলেন। রোগীর ফুসফুসের অসুস্থতার কোনো ইতিহাস নেই এবং গত চার মাসে কোনোরকম চেষ্টা ছাড়াই প্রায় ১১ কিলো ওজন কমেছে।

রোগীর শরীরে করোনভাইরাসের কোনো লক্ষণ ছিল না
রোগীকে টানা চারদিনের হেঁচকির ইতিহাস নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং এর সাথে করোনভাইরাসের কোনো লক্ষণ ছিল না। ভর্তির দিন তার শারীরিক পরীক্ষায়ও তেমন কিছু প্রকাশ পায়নি, তার তাপমাত্রা ছিল ৯৯.১ ডিগ্রি ফারেনহাইট। কোনো কাশি, গলা ব্যথা, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্টও ছিল না।

এক্স-রে ফুসফুসের অস্বাভাবিকতা তুলে ধরেছে
ডাক্তাররা একটানা হেঁচকির কারণ বুঝতে এক্স-রে করার পরে দেখতে পান, তার উভয় ফুসফুসেই অস্বাভাবিকতা পেয়েছিলেন। এই অস্বাভাবিকতাগুলো তার ফুসফুসের যেকোনো ধরণের ক্ষয়ক্ষতি, জ্বলন বা রক্তপাতের ইঙ্গিত দেয়। এমনটাই জানেয়েছেন নিউ ইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্যনীতি ও ব্যবস্থাপনার অধ্যাপক ব্রুস ওয়াই লি।

চিকিৎসকরা আরও একটি সিটি স্ক্যান পরিচালনা করেছিলেন যা ফুসফুসের প্রদাহকে নিশ্চিত করে, যার কারণে হেঁচকি হতে পারে। চিকিৎসকরা তাকে করোনভাইরাস পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে রোগীকে করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। ভর্তি হওয়ার পরে, তিনি ১০১.১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তার হার্টের হারও বেড়েছে। কেস রিপোর্ট অনুসারে, ভর্তির ঠিক একদিন পর রোগীর করোনা পজেটিভ এসেছিল।

গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, তার একটানা হেঁচকির সমস্যা করোনাভাইরাসের লক্ষণ ছিল। যদিও ধীরে ধীরে ওজন কমে যাওয়ার সাথে এই রোগের কোনো যোগসূত্র আছে বলে মনে হয় না।