‘বাইডেন বিজয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা শোচনীয় হবে’

6

আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেন বিজয়ী হয়ে হোয়াইট হাউসে এলে তার অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা শোচনীয় হবে বলে মন্তব্য করেছেন রিপাবলিকানরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

সোমবার রিপাবলিকান পার্টির জাতীয় সম্মেলনের শুরুতে ট্রাম্প ও তার অনুসারীরা এই মন্তব্য করেন। এসময় প্রমাণ ছাড়াই ডেমোক্র্যাটরা নভেম্বরের নির্বাচনে চুরি করে জিততে চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করা হয়।

গত সপ্তাহে ডেমোক্র্যাটদের জাতীয় সম্মেলনকে ‘অন্ধকার ও হতাশাচ্ছন্ন’ হিসেবে চিত্রিত করা রিপাবলিকানরা তাদের সম্মেলনে ‘উদ্দীপনা ও ইতিবাচক বার্তা’ থাকবে বলে আশ্বস্ত করলেও প্রথম রাতের মূল বক্তাদের কথায় ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কী কী ক্ষতি হবে সেই বিষয় প্রাধান্য পায়।

ট্রাম্পের প্রচার উপদেষ্টা কিম্বারলি গুইলফয়েলতারা বলেন, ডেমোক্র্যাটরা আপনার স্বাধীনতা, আপনার মুক্তি চুরি করতে চায়। তারা চায় আপনি যা দেখছেন, যা চিন্তা করছেন, যা বিশ্বাস করছেন তা নিয়ন্ত্রণ করতে, যেন তারা আপনার জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

সোমবার রাতে দেওয়া বক্তৃতায় অনেকেই বাইডেন ও তার রানিং মেট মার্কিন সিনেটর কমলা হ্যারিসকে উগ্র বামপন্থিদের ‘হাতের পুতুল’ হিসেবে চিত্রিত করেছেন। পুরো সম্মেলনেই এই প্রসঙ্গটি বারবার ঘুরে ফিরে আসবে বলেও পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

বাইডেন পুলিশের তহবিলে কাটছাঁট করবেন এবং তেল-গ্যান উত্তোলনে ‘ফ্র্যাকিং’ পদ্ধতি নিষিদ্ধ করবেন বলে রিপাবলিকান সম্মেলনের প্রথম রাতে কথা বলা একাধিক বক্তা অভিযোগ করেছেন।

এদিনের সম্মেলনে সাউথ ক্যারোলাইনার কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকান সিনেটর টিম স্কট ও জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি তাদের বক্তৃতায় বাইডেন ও তার দল ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যালঘু ভোটারদের স্বার্থ রক্ষায় রিপাবলিকানদের চেয়ে ভালো, এমন ধ্যানধারণা উড়িয়ে দেন।

হ্যালি বলেন, ডেমোক্র্যাটদের বেশিরভাগের কাছেই এখন যুক্তরাষ্ট্রকে বর্ণবাদী বলাটা ফ্যাশনেবল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এটা মিথ্যা, যুক্তরাষ্ট্র মোটেও বর্ণবাদী দেশ নয়।

সম্মেলনে প্রচারিত এক ভিডিওতে মহামারী মোকাবেলায় ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুণগানও গাওয়া হয়েছে। শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের পাশাপাশি অন্যান্য ভোটারদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে এদিন রিপাবলিকান সম্মেলনের বক্তা তালিকায় ছিলেন আমেরিকান ফুটবলের এক সময়কার কৃষ্ণাঙ্গ তারকা হারশেল ওয়াকার ও বাল্টিমোরের কংগ্রেসনাল নির্বাচনের কৃষ্ণাঙ্গ প্রার্থী কিম ক্ল্যাচিকও।

ট্রাম্পের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোর ভোটারদের খুশি রাখতে রিপাবলিকান সম্মেলনের প্রথম রাতে গুরুত্ব পেয়েছেন মার্ক ও প্যাট্রিসিয়া ম্যাকক্লোস্কিও; বাড়ির পাশ দিয়ে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ বিক্ষোভ যাওয়ার সময় এ যুগল আন্দোলনকারীদের দিকে বন্দুক উঁচিয়ে ধরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলেন।