এক মাসেই প্রায় ৩ হাজার আবেদন জমা

3

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ১২ হাজার ১৪৬টি বেসরকারি হাসপাতাল লাইসেন্স নবায়নের জন্য অনলাইনে আবেদন করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত এক মাসেই আবেদন জমা পড়েছে প্রায় তিন হাজার। এখন যাচাই-বাছাইসহ লাইসেন্স নবায়নের প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৫১৯টি হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন সম্পন্ন হয়েছে। দেশে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার। এই হিসাব থেকে ধারণা পাওয়া যায় যে এখনো আবেদন করেনি, এমন হাসপাতালের সংখ্যা খুবই কম।

কোভিড-১৯ চিকিৎসাসেবা নিয়ে সমালোচনার মুখে মন্ত্রণালয় তড়িঘড়ি করে এক মাস সময় দিয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ২৩ আগস্টের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করতে বলেছিল। হাসপাতালগুলো আবেদন করে তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। এখন দেখার বিষয়, মন্ত্রণালয় কত দিনে লাইসেন্স নবায়নের এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। ৪ হাজার ৫১৯টি লাইসেন্স নবায়নের যে হিসাবের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো আগের।

 

নবায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কত দিন লাগতে পারে, জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল বলেন, যারা লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করেছে, তাদেরটা হয়ে যাবে। কিন্তু যারা আবেদন করেনি, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যাদের আবেদনে সামান্য ত্রুটি থাকবে, তারা যদি অঙ্গীকার করে, তবে তাদের কিছুদিনের সুযোগ দেওয়া হবে।

হাসপাতালের মালিকেরা বলছেন, লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া জটিল, ফি অনেক বেশি—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি ঠিক, অনেকগুলো শর্ত আছে, যা পূরণ করতে কষ্ট হয়। তবে আমরা এসব বিষয় বিবেচনায় রাখব।’ তিনি প্রশ্ন করেন, যে হাসপাতাল শত শত কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা হয়, সেই হাসপাতাল কেন পাঁচ লাখ টাকা ফি দিতে পারবে না? ফি তো নির্ধারণ করা হয়েছে হাসপাতালের বেড অনুযায়ী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ফরিদউদ্দীন মিয়া বলেন, অল্প দিনের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। গতকাল রোববার পর্যন্ত ১ হাজার ৬৫৯টি হাসপাতাল পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। পরিদর্শনের অপেক্ষায় আছে আরও ২ হাজার ৬৬৭টি।

বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের হিসাবে ৮০ শতাংশের বেশি হাসপাতাল আবেদন করেছে। সামান্য বাকি থাকতে পারে। সরকারের এটা একটা ভালো পদক্ষেপ।’

সূত্র: প্রথম আলো