রাজবাড়ী জেলার নবীন-প্রবীন নেতারা, সভাপতি হিসাবে হক কেই চায়

13
শামিম বিশ্বাস রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধিঃ
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার ) রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে। রাজবাড়ী রেলওয়ে মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের এ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কে হবে এবারের সভাপতি? জিল্লুল হাকিম নাকি নূরে আলম সিদ্দিকী হক। তবে অকপটে শোনা যাচ্ছে হক কেই চায় তৃণমূল নেতারা।
এই সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী হচ্ছেন অনেকেই। তাদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে হেভিওয়েট প্রার্থী নূরে আলম সিদ্দিকী হক। জেলা আওয়ামী লীগের নবীন-প্রবীণ নেতাদের আলোচনায় বার বারই উঠে আসছে হকের নাম।
গ্রামগঞ্জে পাড়া-মহল্লায় অলিতে গলিতে চায়ের দোকানে সবখানে এখন জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। সবাই তাকিয়ে আছে নতুন মুখের সম্ভাবনায়।
সবার একটাই চাওয়া স্বচ্ছ নিরপেক্ষ ও আদর্শবান নেতাকেই বানানো হোক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।
জেলার বিভিন্ন জায়গায় কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, সবার চাওয়াই যখন নতুন মুখের তখন আলোচনার শীর্ষে থাকতেই পারে নূরে আলম সিদ্দিকী হক। জেলার এক বর্ষীয়ান নেতার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন। হক কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে থেকে দক্ষতা সততা ও নিষ্ঠার সাথে তাঁর গুরু দায়িত্ব পালন করে আসছে, তার হাতে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব তুলে দিলে জেলা আওয়ামী লীগ আরো সুসংগঠিত হবে।
হক বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি আমার হাতে রাজবাড়ী জেলার দায়িত্ব তুলে দেন তাহলে আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামীলীগ আরো সুসংগঠিত করার চেষ্টা করবো। সেই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তুলবো।
এর আগে (২০১৫) সালে (বুধবার) রেলওয়ে মাঠে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জিল্লুল হাকিমকে সভাপতি ও কাজী এরাদত আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠছে। জেলা জুড়ে আওয়ামী লীগের নবীন ও প্রবীণদের মধ্যে উঠছে উদ্বেগ। কে হবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আগামী জেলা কাউন্সিলে সভাপতি হিসেবে তৃণমূল থেকে বার বার নাম উঠে আসছে আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা উপকমিটির সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, রাজবাড়ী ২ আসেনের আলোচিত মুখ ঢাকা উত্তর অঞ্চলের কৃষক লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা, সাংবাদিক ও লেখক নুরে আলম সিদ্দিকী হকের নাম।
নুরে আলম সিদ্দিকী হক সম্পর্কে জানা যায় মাত্র ২১ বছর বয়সে মৃগী ইউপির আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন ২০০৪ – ২০১৭ সাল পর্যন্ত একাধারে ১৩ বছর রাজবাড়ী জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপির চরম আস্হাভাজন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি এবং কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের দুঃসময়ের রাজপথের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা উত্তর অঞ্চলের কৃষক লীগের দায়িত্বে আছে।
রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনাকালে সবকিছু থমকে পড়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন নুরে আলম সিদ্দিকী হক। অসহায়কে দিয়েছেন সহায়তা। সাধারণ মানুষ, চা বিক্রেতাসহ সকল শ্রেণির পেশার মানুষকে সাহায্য করেছেন। রাজবাড়ী-২ আসন এলাকায় তার জনপ্রিয়তা বর্ষার ভরা যৌবনের মতো ভেসে বেড়াচ্ছে। তার মহাত্ব, মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাকে নিয়ে গেছে অন্য এক উচ্চতায়।
এই মহৎ দানবীর রাজনৈতিক ব্যক্তি ১/১১ তৎকালীন সেনা সরকারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন, সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছেন দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের সুখ দুঃখের এক সাথে হয়ে।
আসন্ন রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে, জেলার আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের তৃনমুলের দুঃসময়ে হামলা, মামলা, জেল জুলুম অত্যাচার নির্যাতনের স্বীকার ও রাজবাড়ী জেলার নির্যাতিত ব্যানারে নেতাকর্মীরা সভাপতি হিসেবে দেখতে চায় নুরে আলম সিদ্দিকী হক কে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন প্রবীণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বলেন, বর্তমান জেলা কমিটি শীর্ষ নেতাদের কারণে হাইব্রিড আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশ ঘটেছে যা দুঃখজনক। আমাদের দাবী বর্তমান কমিটির শীর্ষ পদের পরিবর্তন আসুক।