কটিয়াদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রয়াত “কবি নূরে মালেক” স্মরণসভা

12
আইডি নংঃ ৯৯৬ মোঃ আরিফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলায় সাহিত্য সংসদের প্রতিষ্ঠাতা, শ্রমিক নেতা, ‘সুকান্ত পুরস্কার’ প্রাপ্ত প্রয়াত কবি নূরে মালেক এর ১২তম মৃত্যু বার্ষিকীতে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে কটিয়াদী উপজেলার বোয়ালিয়া তাহেরা-নূর হাই স্কুল এণ্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে কবি নূরে মালেক মুজিব স্মৃতি গ্রন্থাগারে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
কবি নূরে মালেক মুজিব স্মৃতি গ্রন্থাগারের উপদেষ্টা প্রয়াত কবির বড়ভাই রাজনীতিক ও সমাজকর্মী আবদুর রহমান রুমীর সভাপতিত্বে স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার)।
কটিয়াদী রক্তদান সমিতির সমন্বয়ক বদরুল আলম নাঈমের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি পিপি শাহ আজিজুল হক।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যোতিশ্বর পাল, কটিয়াদী সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি মেরাজ রাহীম, “কিশোরগঞ্জ নিউজ” এর প্রধান সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম ও কটিয়াদী পৌরসভার কাউন্সিলর আশরাফুল হক দাদন।
এছাড়া প্রয়াত শ্রমিক নেতার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরে বক্তৃতা করেন জেলা বন সম্প্রসারণ কেন্দ্রের রেঞ্জ অফিসার কবি হারুন অর রশিদ, লোহাজুরী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি সেলিম উদ্দিন খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান বাদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান রাজন, তাহেরা-নূর হাই স্কুল এণ্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম ফরাজী কালাম, সাবেক সেনা সদস্য নূরুল হক মিছির উদ্দিন, কবি গোলাপ আমিন, আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল হক ফয়সাল, সেলিম হায়দার, আবুল কালাম শামসুদ্দিন কাঞ্চন, রনি খান, রায়হান আহমেদ প্রমুখ।
স্মরণসভায় অন্যদের মাঝে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম শাহাদাত হোসেন, পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম, বিশিষ্ট সমাজসেবক আজিজুল হক গিয়াস উদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান মুছা, নারী নেত্রী লুৎফা আক্তার, স্বাস্থ্য সহকারী মেজবাহ উদ্দিন রোমান প্রমুখ ছাড়াও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিকর্মীদের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।
বক্তাগণ বলেন, সুকান্ত পুরস্কারপ্রাপ্ত মরহুম কবি নূরে মালেক একজন শ্রমিক নেতা হয়েও সাহিত্যচর্চায় ছিলেন নিবেদিত। তিনি আজীবন ধ্যান-জ্ঞানে ও কর্মকাণ্ডে শ্রেণি বৈষম্য দূরীকরণে কাজ করেছেন।
রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে তিনি যেমন শ্রমিক মেহনতি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেছেন তেমিন সাহিত্যেও সর্বত্র নিরলস কর্মী ছিলেন।
স্মরণসভায় কবি নূরে মালেক এর সংক্ষিপ্ত জীবন-কর্ম নিয়ে প্রকাশিত ভাঁজপত্র বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্যঃ কবি নূরে মালেক ২০০৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বিসিআইসি’র রেস্টহাউজে মর্মান্তিক এক অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন।