নতুন করে দেশ-জাতি-সভ্যতা গঠনে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা নাজমুল হুদা ওয়ারেছী চঞ্চলের কিছু প্রস্তাবনা

27
রফিকুল ইসলাম -আইডি নং-৮৪২
বিডিইউনিয়ন নিউজ
জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোণা।
নতুন করে দেশ-জাতি-সভ্যতা গঠনে নাজমুল হুদা ওয়ারেছী চঞ্চলের পয়েন্ট ওয়াইজ প্রস্তাবনাগুলো হলো- ১. ধনী-গরিব সকল দেশ-জাতি-সভ্যতার মূল ভিত্তি যদি শিক্ষা হয়, তাহলে সবার আগে এখানে জাতিগঠনমূলক পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের কালচারের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের আর্থিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের পারিবারিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন আনতে হবে। বাবা-মা-অবিভাবক লেভেলে পরিবর্তন আনতে হবে। এর জন্য প্রথম থেকেই শিক্ষার প্রথম স্তর স্কুলকে শক্তিশালী করতে হবে কিন্তু কীভাবে সে ব্যাখ্যাও তুলে ধরছি।
১নং পয়েন্টের প্রতিটি সাবপয়েন্টভিত্তিক মতামত আমি দিচ্ছি-
১.১ প্রথমেই প্রাথমিক স্কুলে ক্লাস ওয়ান থেকেই পারিবারিক/ধর্মীয়/সামাজিক/সাংস্কৃতিক শিক্ষাবিষয়ক সম্পূর্ণ আলাদা একটি পাঠ্যবই যুক্ত করতে হবে। বাংলা, ইংরেজি, অংক, বিজ্ঞান শেখার আগেই…
১.২- পারিবারিক/সামাজিক/ধর্মীয় শিক্ষা বিষয়ক পাঠ্যবইয়ের অর্ধেক নম্বর থাকবে পাঠ্য আর অর্ধেক থাকবে ব্যবহারিক।
পারিবারিক শিক্ষার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে আচার-ব্যবহার, দেশপ্রেম শিক্ষাসহ সভ্য জাতিগঠনের প্রাথমিক উপাদান। এ জন্য পরিবারকেও এ ব্যাপারে জাগ্রত করার জন্য পারিবারিক শিক্ষক টিম থাকতে হবে যারা গ্রামভিত্তিক অভিভাবক দের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষা দিবেন তারা, যেহেতু অভিভাবকরা সবাই শিক্ষিত নয়। অনেকটা জন্মনিয়ন্ত্রণ ক্যাম্পেইনের মত।
১.৩-প্রাথমিক শিক্ষা হতে হবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত।
১.৪-স্কুলগুলো হবে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত।
১.৫-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক গেস্ট টিচার হিসেবে ৬-১২ ক্লাসের ক্লাস নিতে হবে।
১.৬-প্রতিদিন বাধ্যতামূলক এক ঘণ্টা খেলার সময় থাকবে।
১.৭-সপ্তাহে একদিন সাংস্কৃতিক ক্নাস খাকবে।
১.৮-সপ্তাহে একদিন ডিবেট, একদিন ইংলিশ ডিবেট থাকবে।
১.৯-নিয়মিত অন্ত এবং আন্তঃস্কুল বাংলা, ইংরেজি বিতর্ক, গানের প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, কবিতা আবৃতি ইত্যাদি থাকবে
১.১০-স্কুল গুলোতে নিয়মিত পাঠচক্রের আয়োজন থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধুর জীবনী, সুকুমার রায়, ফররুখ আহমেদ, নজরুল, সুকান্ত, আহমেদ ছফা, বিভূতি, আবুল মনসুর, আক্তারুজ্জামান ইত্যাদি বইয়ের পাঠচক্র হবে ৩-১২ ক্লাস পর্যন্ত।
১.১১-প্রাইমারি থেকে বিভিন্ন দিকে আগ্রহী শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে। সাধারণ পড়াশোনা, কারিগরি শিক্ষা, ব্যবসা, হার্ডওয়ার্ক, খেলাধুলাভিত্তিক শিক্ষার্থী আলাদা করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবারের ইচ্ছা ও সামর্থ্যকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
১.১২-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত অনুদানের সম্মান দিতে হবে।
১.১৩-মাদ্রাসা ও ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলকে বাইরে রেখে একটি আদর্শিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
মনে রাখতে হবে সভ্যতা একদিনে গড়ে ওঠে না। আমাদের পাশের দেশ ভুটান সভ্য জাতি, সচেতন জাতি অথচ আমাদের চেয়ে ধনী নয়।
ফতোয়াবাজসহ সমাজের নেগেটিভ উপাদানগুলোকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। আবারও বলছি, একদিনে পরিবর্তন সম্ভব নয়। পরিকল্পনায় স্থির থেকে বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করেই নতুন সূর্যের উদয় ঘটাতে হবে।
পরিশেষে এ পরিকল্পনায় কাজ শুরুর জন্য দরকার আমাদের প্রধানমন্ত্রী’র মতো দেশপ্রেমী শিক্ষা উপদেষ্টা, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, মানসম্মত শিক্ষকসহ সৎ, মেধাবী, দক্ষ, যোগ্যতাসম্পন্ন একটি টিম।
আমি আশাবাদী আমাদের বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই।
কালেক্টেডঃ- নাজমুল হুদা ওয়ারেছী চঞ্চল
কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা, সাবেক সদস্য, তথ্য ও গবেষণা উপকমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
ছবিতে থাকতে পারে: 1 জন, চশমা
ইনসাইট দেখুন
পোস্টের দর্শক সংখ্যা 1
3