লৌহজং পাকহানাদার মুক্ত দিবস পালন

7
ফৌজি হাসান খাঁন রিকু, লৌহজং(মুন্সীগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ
আইডি নং- ৭৫৩
১৪ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা পাকহানাদার মুক্ত দিবস।১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর এই দিনে লৌহজং উপজেলাকে পাকহানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত করেছিল বীর মুক্তিযোদ্ধারা।ইতিহাসের স্মরণীয় এই দিনটি উপলক্ষে পুস্পস্তবক অর্পণ,
দোয়া,আলোচনা সভা ও বিজয় র‌্যালির আয়োজন করেন লৌহজং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব আলম বাহারের সভাপতিত্বে ও ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন বাবুল মুন্সীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ঢালী মোয়াজ্জেম হোসেন।
উক্ত সভায় উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,জাহাঙ্গীর আলম ফকির,এস এম ইসহাক,শাহনূর ইসলাম,সেকান্দার আলী বাদল,সিরাজ মৃধা,আলী আকবর,শাখাওয়াত হোসেন,মুজিবুর রহমান,দিদার হোসেন,নজরুল ইসলাম লাল,এ কে এম শাহজাহান প্রমুখ।
এসময় বিজয়ের স্মরণীয় এই দিনটিতে সরকারীভাবে কোন কর্মসূচি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারাসহ উপস্থিত সকলে।
লৌহজং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এ উপলক্ষে সকালে একটি বিজয় র‌্যালি বের করেন।র‌্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন ও দোয়া করা হয়। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে প্রাঙ্গণে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়।
লৌহজং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মহিউদ্দিন বাবুল মুন্সী বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ নভেম্বর লৌহজংকে পাকহানাদার বাহিনী মুক্ত করা হয়। তাই এই দিনটি আমাদের কাছে চির স্মরনীয় হয়ে থাকবে। আমরা গোয়ালী মান্দ্রায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধে জয় লাভ করি। সেখানে দীর্ঘ রণযুদ্ধের পর আমরা বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনাদের ধরতে সক্ষম হই। এছাড়াও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা তৎকালীন লৌহজং থানা হাসপাতালে স্থাপিত পাক হানাদারদের ক্যাম্পে আক্রমণ চালালে পাকসেনারা পালিয়ে যায় এবং লৌহজং উপজেলাটি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী থেকে মুক্ত করে বিজয়ের উল্লাসে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা উত্তোলন করা হয়।