৯০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ রেখে গেছেন ম্যারাডোনা

29

পুরো পৃথিবীর ফুটবলপ্রেমীদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে আচমকাই মর্ত্যলোক থেকে বিদায় নিয়েছেন দিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা। তার মরদেহ সমাহিত করার পর যে প্রশ্নটি কোটি কোটি মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো, ম্যারাডোনার সম্পদের অংশীদার কারা হবেন? ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম খুঁজে বের করেছে প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৭৬৫ কোটি টাকা) সম্পত্তি রেখে গেছেন ম্যারাডোনা।

সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে আগামী কিছুদিনের মধ্যে বেশ জটিল পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন ম্যারাডোনার আইনজীবী ম্যাথিয়াস মোরলা। একদা নাকি ম্যারাডোনা বলেছিলেন, তিনি তার পুরো সম্পদ দান করতে চান। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো ‘উইল’ করে গিয়েছিলেন কিনা সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। যদি ম্যারাডোনা দানের ব্যাপারে দলিল করে গিয়ে থাকেন, তাহলে এ বিষয়ে আর কোনো তর্কের অবকাশ থাকবে না। তবে যদি তিনি উইল করে না থাকেন, তাহলে আর্জেন্টিনার উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী তার সম্পত্তি ভাগ হবে। আইন অনুযায়ী ম্যারাডোনার সন্তানরা তার সম্পত্তির কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ পাবেন।

আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ৭৫ থেকে ৯০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ রেখে গেছেন ম্যারাডোনা। এগুলোর মধ্যে আছে বুয়েনাস আয়ার্সে বেশ কয়েকটি বাড়ি, স্বর্ণালংকার ও কয়েকটি গাড়ি। এর মধ্যে রোলস রয়েস, বিএমডব্লিউর সর্বাধুনিক মডেলের বিলাসবহুল গাড়িও রয়েছে। আর্জেন্টিনা, দুবাইসহ তিনি যেসব জায়গায় বসবাস করেছেন, সেখানে কিছু প্রতিষ্ঠানে তার মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে।

তিনি সর্বশেষ যে ক্লাবের কোচ ছিলেন, সেই জিমনেশিয়া ক্লাবের সঙ্গেও তার দেনাপাওনা থাকতে পারে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ‘পুমা’র সঙ্গে তার স্পন্সরশিপ চুক্তি রয়েছে, কোনামি ও ইএ স্পোর্টসের সঙ্গে তার ইমেজ রাইটস চুক্তি রয়েছে। ফিফা গেম তৈরিকারকদের সঙ্গেও চুক্তি রয়েছে। এসব চুক্তি থেকে ভবিষ্যতেও মোটা অর্থ পাওয়া যাবে। এই অর্থও তার উত্তরাধিকারীরাই পাবেন।

আসল ঝামেলাটা হবে ম্যারাডোনার উত্তরাধিকারী কারা, সেটা নিয়ে। এ বিষয়টা বেশ জটিল আকার ধারণ করতে পারে। ম্যারাডোনা জীবিত অবস্থায় পাঁচ সন্তানকে স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন। তারা হলেন তার সাবেক এবং একমাত্র স্ত্রী ক্লডিয়া ভিয়াফেনের ঘরে জন্ম নেওয়া দুই মেয়ে ডালমা ও জিয়ান্নিনা। ন্যাপোলিতে খেলার সময় ইতালিয়ান সুন্দরী ক্রিস্টিনা সিনাগ্রার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছিল তার। তাদের সন্তানকে প্রথমে মেনে না নিলেও ২০১৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনা জুনিয়রকে স্বীকৃতি দেন ম্যারাডোনা। ক্লডিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ভেরোনিকা ওজেদার সঙ্গে লম্বা সময় একত্রে থেকেছেন ম্যারাডোনা। তাদের সন্তান ফার্নান্দো ম্যারাডোনা তার সঙ্গেই থাকতেন।

এ ছাড়া আর্জেন্টিনার নারী ফুটবলার ভ্যালেরিয়া সাবালিনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তার। জানা ম্যারাডোনা নামে তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। জানার বয়স ১৮ হওয়ার পর তাকে স্বীকৃতি দেন ম্যারাডোনা। এই পাঁচজনের বাইরে আরও ছয়জন নিজেদের ম্যারাডোনার সন্তান হিসেবে দাবি করছেন। এর মধ্যে তিনজন আদালতে মামলাও ঠুকেছেন। আগামী বছরের শুরুতে তাদের সঙ্গে ম্যারাডোনার ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশও দিয়েছিলেন আদালত। ম্যারাডোনার মৃত্যুতে বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই জটিল হয়ে যাবে।