চট্টগ্রামে এই যেন আরেক মিন্নি

86
#Mohiuddin Faruque
ID No – 918
Chattogram reporter
চট্টগ্রামে এই যেন আরেক মিন্নি
৫মাস আগে আকদ হয়েছিল এরমধ্যেই সম্পর্কের ভাংগনে কাবিননামার টাকা দিতে না পারায় নিজের প্রাণ বিসর্জন দিলেন চ্ট্গ্রাম এর ফটিকছড়ির যুবক ইমরাজ…
ইমরাজ উদ্দিন পেশায় একজন স্টিল সেন্টারিং এর মিস্ত্রি,,
৯ লাখ টাকা কাবিন দিয়ে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মেয়ে ফারিয়াকে বিয়ে করেছিলেন,,
মাত্র ৫ মাস আগে তাদের আকদ হয়েছিল,আকদ করা নতুন বউকে ঘরেও তোলা হয়নি,এরই মাঝে যুবক ইমরাজ বুঝতে পারেন তার আকদ করা বউ অন্যজনের সাথে অবৈধ প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত,,
নিশ্চিত হওয়ার পর স্বামী স্ত্রীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ মনোমালিন্য অবশেষে চিরকুট লিখে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন যুবক ইমরাজ,,
এ ঘটনাটি ঘটেছে ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের আলমদা তালুকদার বাড়িতে,,
গত ৮ ডিসেম্বর রাত ৮ টার দিকে ইমরাজ তার ঘরের পেছনে গাছের সাথে আত্মহত্যার জন্য ফাঁস নিলে পরিবারের লোকজন দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
তার অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করলে দীর্ঘ ৮ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ১৫ ডিসেম্বর রাত ২ টার ৪৫ মিনিটের মৃত্যু বরণ করেন,,,
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন বাদে মাগরিব জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়,,
জানা গেছে, গত ৫ মাস আগে ইমরাজ উদ্দিনের সাথে চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়া এলাকার ফারিয়ার সাথে পারিবারিক ভাবে কথাবার্তা ঠিক হয়ে আকদ হয়।
ইমরাজের পরিবারের সদস্যরা জানান, আকদের পর থেকে ফারিয়া ও তার পরিবারের লোকজন ইমরাজ এর সাথে অস্বাভাবিক আচরণ করে,
মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে সব সময় টাকা পয়সা নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা চাপ সৃষ্টি করে। হঠাৎ একদিন ইমরাজ তাদের বাসায় বেড়াতে গেলে ফারিয়া ইমরাজকে সাথে রেখে অন্য ছেলের সাথে কথা বলার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলে,,,
ইমরাজ বিষয়টি ফারিয়ার (স্ত্রী) মাকে (নতুন শাশুড়ীকে) জানান,এরপর থেকেই শুরু হয় স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া-ঝাটি,
নতুন আকদ করা বউটির প্রশ্ন ছিল কেন অন্য ছেলের সাথে সম্পর্ক থাকার বিষয়টি তার মাকে জানানো হলো তা নিয়ে বিয়ে ভাঙ্গা এবং তালাক পর্যন্ত গড়ায়,,
এক পর্যায়ে মেয়ের পরিবার তাদের কাবিনের টাকা দাবি করে। কাবিনের টাকা পরিশোধ করতে অক্ষম ছেলে।শেষ পর্যন্ত মানসিক যন্ত্রণায় আত্মহত্যা করলেন ফারিয়ার পরিবার এবং ফারিয়ার জন্য,,,
আত্মহত্যার আগে সবার জন্য একটি পত্র লিখে যান ইমরাজ,,,
ইমরাজের ময়নাতদন্তের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে লাশ গ্রামের বাড়িতে নেয়া হলে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার অবতারণা হয়,এলাকা জুড়ে আপনজন সবার মাঝে ছিল শুধুই কান্নাকাটি,,
এলাকাবাসী এবং তার পরিবারের লোকজন প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবি জানান,,